৫ ডিসেম্বর নেটফ্লিক্স ঘোষণা করে যে তারা ৮৭ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে ওয়ার্নার ব্রাদার্স এবং এইচবিও ম্যাক্স অধিগ্রহণে সমঝোতায় পৌঁছেছে। এই সংবাদে হলিউডে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্টুডিও মালিকানায় প্রবেশের স্বপ্ন দেখা নেটফ্লিক্স অবশেষে ইতিহাসের অন্যতম বড় বিনিয়োগে পা রাখছে। এই চুক্তির মাধ্যমে নেটফ্লিক্স পাবে ওয়ার্নারের বিশাল কনটেন্ট লাইব্রেরি, দ্য উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ড এবং ফ্রেন্ডস এর মতো জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি, ওয়ার্নার ব্রাদার্স গেমস বিভাগ এবং বারব্যাঙ্ক স্টুডিও লট।
ডেভিড এলিসনের পাল্টা লড়াই
নেটফ্লিক্স চুক্তি ঘোষণার তিন দিনের মাথায় প্যারামাউন্ট স্কাইড্যান্সের প্রধান ডেভিড এলিসন খেলা ঘুরিয়ে দেন। তিনি ওয়ানার ব্রাদার্স ডিসকভারি কিনতে শেয়ারপ্রতি ৩০ ডলার মূল্যে ১০৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের শত্রুভাবাপন্ন অধিগ্রহণ প্রস্তাব দেন।
এলিসনের অভিযোগ, ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি বোর্ড নেটফ্লিক্সকে সুবিধা দিতে একটি অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালিয়েছে। তার দাবি, তাদের প্রস্তাব অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী এবং শিল্পের ভবিষ্যতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
হোয়াইট হাউসের অপ্রত্যাশিত ভূমিকা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তি অনুমোদনে ব্যক্তিগতভাবে জড়িত হবেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি নেটফ্লিক্সের কো সিইও টেড সারানডোসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং জানান যে বাজারের আধিপত্য বাড়ার ঝুঁকি নিয়েই উদ্বেগ রয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাম্পের সঙ্গে এলিসন পরিবারের ঘনিষ্ঠতা ব্যাপারটিকে আরও রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে। তবে পরবর্তী মন্তব্যে ট্রাম্প বলেন, তিনি দুটি প্রস্তাবই যাচাই করে পরে সিদ্ধান্ত নেবেন।
কেন তীব্র প্রতিযোগিতা?
ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারি হলো হলিউডের সবচেয়ে শক্তিশালী কনটেন্ট মালিকদের একটি। এর স্টুডিও, এইচবিওর মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড এবং বৈশ্বিক বিতরণ নেটফ্লিক্সকে বিপুল কৌশলগত সুবিধা দেবে।
নেটফ্লিক্স বলছে, এই অধিগ্রহণ তাদের স্ট্রিমিং সাম্রাজ্যকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ওয়ার্নারের চলচ্চিত্র প্রদর্শন মডেল অপরিবর্তিত থাকবে।
প্যারামাউন্ট বলছে, নেটফ্লিক্স ও ওয়ার্নারের যৌথ শক্তি বাজারকে অসম প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে। তারা থিয়েট্রিকাল রিলিজ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে সৃজনশীল সম্প্রদায়ের সমর্থন টানতে চাইছে।
হলিউডে বিরোধ ও আশঙ্কা
একত্রীকরণের ঘোষণার পরপরই হলিউডের ইউনিয়ন, শিল্পী, থিয়েটার মালিক এবং ভোক্তা অধিকার সংগঠনগুলো নেটফ্লিক্স চুক্তির বিরোধিতা শুরু করে। তাদের দাবি, নেটফ্লিক্স ঐতিহ্যগতভাবে সিনেমা হলে ছবি মুক্তি দিতে অনাগ্রহী এবং ওয়ার্নার ব্রাদার্স তাদের দখলে গেলে বিশ্বব্যাপী সিনেমা হল ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। থিয়েটার মালিকদের মতে, এটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী শিল্পের জন্য এক নজিরবিহীন হুমকি।
চুক্তির ভেতরের হিসাব
নেটফ্লিক্স জানিয়েছে, ওয়ার্নারের সাংগঠনিক কাঠামো বজায় রেখে তারা কাজ চালাতে চায়। তবে তৃতীয় বছরের মধ্যে বছরে দুই থেকে তিন বিলিয়ন ডলার খরচ কমানোর লক্ষ্য রয়েছে, যা বড় আকারের কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
প্যারামাউন্ট দাবি করছে, তাদের অধিগ্রহণ হলে ছয় বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ব্যয় সাশ্রয় হবে। এর অর্থ দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই হতে পারে।
নিয়ন্ত্রক প্রতিবন্ধকতা সামনে
এই চুক্তি অনুমোদনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমতি প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্ট্রিমিং বাজারের প্রতিযোগিতা এবং কনটেন্ট একচেটিয়াকরণের প্রশ্নে নেটফ্লিক্স কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। তবুও নেটফ্লিক্স চুক্তি অনুমোদনে আত্মবিশ্বাসী।