মারাকেশ আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের জুরি প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন কোরিয়ান অস্কারজয়ী নির্মাতা বং জুন-হো। জুরি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এআই–এর উত্থান ও সৃজনশীল জগতে এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বং জুন-হো প্রথমে দিলেন পরিমিত, পরে ব্যক্তিগত এবং বিস্ফোরক এক জবাব—যা মুহূর্তেই আলোচনায় উঠে আসে।
বং জুন-হো বলেন, তাঁর “অফিশিয়াল” মত হলো—এআই মানুষের সৃজনক্ষমতা সম্পর্কে আমাদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। তবে “পার্সোনাল” উত্তরে তিনি রসিকতা মিশিয়ে বলেন, “আমি একটি সামরিক স্কোয়াড গঠন করতে চাই, যাদের মিশন হবে—এআই ধ্বংস করা।” তাঁর এই উক্তি মুহূর্তেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় এবং সামাজিকমাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এআই–এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব চলচ্চিত্রশিল্পে যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তা শুধু বং জুন-হোর বক্তব্যেই নয়, বরং উপস্থিত অন্যান্য জুরি সদস্যদের প্রতিক্রিয়াতেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন বং—যার বক্তব্যে উঠে আসে প্রযুক্তিকে ঘিরে মানবিক সৃজনশীলতার অস্তিত্ব সংকট।
বং জুন-হো স্পষ্ট করে জানান, এআই মানুষের অভিজ্ঞতা, ব্যর্থতা, সংগ্রাম বা আবেগকে কখনোই ধারণ করতে পারবে না। তাঁর মতে, সৃজনশীল কাজ মানে হলো মানুষে মানুষে মিথস্ক্রিয়া, অনুভব, দর্শন—যা কোনো অ্যালগোরিদম দিয়ে তৈরি করা সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, এআই যদি মানবিক সৃষ্টিশীলতার জায়গা ছিনিয়ে নেয়, তাহলে তা কেবল শিল্প নয়, সমাজের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করবে।
বংয়ের বক্তব্যের পর সেলিন সঙ, জুলিয়া ডুকুরনো, আনিয়া টেইলর-জয়, জেনা অরটেগা ও অন্যান্য জুরিরাও এআই নিয়ে নিজেদের মত দেন। কিন্তু সবচেয়ে জোরালো অবস্থানটি ছিল বং জুন-হোর—যেখানে তিনি রসিকতার আড়ালে অত্যন্ত গুরুতর এক বাস্তবতার ইঙ্গিত দিয়েছেন: মানবিক সৃষ্টিশীলতা যদি রক্ষার প্রয়োজন হয়, তবে সেই যুদ্ধে নেতৃত্ব দিতেও তিনি প্রস্তুত।
এদিকে জুরি সদস্য জেনা অরটেগা বলেন, এআই এখন “প্যান্ডোরার বাক্স”—যা খুলে গেছে এবং যার প্রভাব এখনো পুরোপুরি অনুমান করা যায় না। তবে বং জুন-হোর মতো তিনিও বিশ্বাস করেন, মানবসৃষ্ট শিল্পই শেষ পর্যন্ত টিকে থাকবে।
মারাকেশ উৎসবের জুরি কনফারেন্সে বং জুন-হোর এই মন্তব্য শুধু আলোচনা নয়, নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। অনেকে মনে করছেন, চলচ্চিত্রশিল্পের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রেক্ষাপটে বংয়ের মতো শীর্ষ নির্মাতাদের স্পষ্ট অবস্থান ভবিষ্যতের শিল্পচর্চার দিকনির্দেশনা দেবে।
সৃজনশীল জগতের সবচেয়ে মানবিক উদ্বেগকে তিনি যেভাবে হাস্যরস আর সততায় তুলে ধরলেন—তা আবারও প্রমাণ করে, তিনি শুধু অসাধারণ গল্পকারই নন, সমকালীন শিল্পচর্চার এক গুরুত্বপূর্ণ চিন্তকও।