দীর্ঘ দেড় বছরের জটিলতা শেষে মুক্তির আলো দেখতে যাচ্ছে রায়হান রাফী পরিচালিত আলোচিত ওয়েব ফিল্ম ‘অমীমাংসিত’। সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গল্পের সাদৃশ্য থাকায় পূর্ববর্তী সরকার আমলে চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড ছবিটির প্রদর্শন স্থগিত করেছিল। ভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গঠিত নতুন চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড অবশেষে সিনেমাটিকে সনদ দিয়েছে এবং মুক্তির পথ খুলে দিয়েছে।
চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো. আবদুল জলিল নিশ্চিত করেছেন যে আপিলের পর ‘অমীমাংসিত’ সনদ পেয়েছে। যদিও সনদপ্রাপ্তির পরও নির্মাতা রায়হান রাফী জানিয়েছেন মুক্তির চূড়ান্ত তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। আইস্ক্রিনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে যে চলচ্চিত্রটি তাদের প্ল্যাটফর্মেই মুক্তি পাবে, তবে কবে তা ঘোষণা করা হবে সেটি নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত টিজারে খুন হওয়া এক সাংবাদিক দম্পতির রহস্যময় ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হয়। ওই সময় থেকেই দর্শকদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় যে গল্পটি বাস্তবের আলোচিত সাগর রুনি হত্যাকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত। এরপর তথ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ফিল্মটি সেন্সর বোর্ডে জমা দিতে বাধ্য করা হয়। বোর্ড ছবিটি দেখে জানায়, এতে নৃশংসতার দৃশ্য রয়েছে, পাশাপাশি কাহিনি ও সংলাপ বিচারাধীন মামলার সঙ্গে মিলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে। সেই যুক্তিতে ছবিটিকে প্রদর্শন অনুপযোগী ঘোষণা করা হয়।
২০২৫ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার পুরনো সেন্সর বোর্ড বিলুপ্ত করে নতুন সার্টিফিকেশন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করে। সেই বোর্ডের অধীনেই ‘অমীমাংসিত’সহ বেশ কয়েকটি আটকে থাকা চলচ্চিত্র পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ পায়। সার্টিফিকেশন বোর্ড গত ১০ মাসে ৯৪টি চলচ্চিত্রকে ছাড়পত্র দিয়েছে এবং ‘অমীমাংসিত’ও সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে।
চলচ্চিত্রটিতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে রয়েছেন ইমতিয়াজ বর্ষণ ও তানজিকা আমিন। থ্রিলার এবং মনস্তাত্ত্বিক উপাদানে গঠিত গল্পটি তদন্ত, সন্দেহ, বিভ্রান্তি এবং এক দম্পতির মৃত্যুরহস্যকে ঘিরে নির্মিত। টিজার প্রকাশের পর থেকেই দর্শকদের কৌতূহল বাড়ছে এবং মুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা জোরদার হচ্ছে।
বহুল আলোচিত এই সত্য ঘটনাপ্রসূত গল্প অবশেষে দর্শকের সামনে আসতে যাচ্ছে। এখন অপেক্ষা কেবল আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ ঘোষণার।