হলিউডের বছরের শেষভাগের পুরস্কার দৌড় জমে উঠতেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এক অপ্রতিরোধ্য যাত্রা। পল টমাস অ্যান্ডারসনের ঐতিহাসিক অ্যাকশন ড্রামা ‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ এখন বছরের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। গত কয়েক দিনের মধ্যেই পরপর একের পর এক সম্মাননা জিতে চলচ্চিত্রটি এগিয়ে যাচ্ছে নিশ্চিত অস্কার ফ্রন্ট রানারের দিকে।
সপ্তাহের শুরুতে ছবিটি সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে জয়ী হয় গথাম অ্যাওয়ার্ডসে। পরদিন নিউ ইয়র্ক ফিল্ম ক্রিটিকস সার্কেলও ঘোষণা করে একই রায়। আর বুধবার ন্যাশনাল বোর্ড অব রিভিউর বার্ষিক নির্বাচনে ছবিটি যেন পুরো মঞ্চটাই দখল করে নেয়। সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা অভিনেতা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, সেরা পার্শ্ব অভিনেতা বেনিসিও ডেল টোরো এবং ব্রেকথ্রু পারফরমার হিসেবে নবাগত চেস ইনফিনিটি; প্রধান সব পুরস্কারই গেল অ্যান্ডারসনের ঝুলিতে।
এই ধারাবাহিক সাফল্যকে অনেকেই বলছেন বছরের সবচেয়ে সুস্পষ্ট পুরস্কার-গতি। বড় কোনো উৎসব না পেরিয়েও কেবল মুক্তির পরপরই দর্শক এবং সমালোচকদের আলোচনায় ছবিটি ছড়িয়ে পড়ে। কাহিনির রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সমসাময়িক প্রশ্নগুলো চলচ্চিত্রটিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সময়কে ঘিরে গড়ে ওঠা এই পিতা কন্যার সম্পর্কের গল্প অনেকের কাছেই হয়ে উঠছে সময়ের দলিল।
রোজ বাইর্ন ‘ইফ আই হ্যাড লেগস আইড কিক ইউ’ এর জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান এবং ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ এর জন্য ইনগা ইব্সডটার লিলিএস হন সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী। নেটফ্লিক্সের ‘ট্রেইন ড্রিমস’ সেরা রূপান্তরিত চিত্রনাট্য এবং ‘কভার আপ’ সেরা প্রামাণ্যচিত্রের স্বীকৃতি পায়। রায়ান কুগলার পরিচালিত ‘সিনার্স’ও মৌসুমে চমক দেখিয়ে সেরা মৌলিক চিত্রনাট্য এবং সেরা চিত্রগ্রহণের পুরস্কার অর্জন করেছে।
ওয়ার্নার ব্রাদার্সের পক্ষে এটি একটি ব্যতিক্রমী বছর। অ্যান্ডারসনের চলচ্চিত্রটি ছাড়াও স্টুডিওর আরও একাধিক প্রকল্প তালিকার শীর্ষে জায়গা পেয়েছে। নেটফ্লিক্স, এ২৪ এবং ইউনিভার্সালও শীর্ষ বিভাগগুলোতে শক্ত উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
তবে উল্লেখযোগ্যভাবে কিছু বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র এবার তালিকায় জায়গা পায়নি। ক্লোয়ি ঝাওয়ের ‘হ্যামনেট’, পার্ক চান উকের ‘নো আদার চয়েস’, রিচার্ড লিংকলেটারের ‘ব্লু মুন’ এবং ব্র্যাডলি কুপারের ‘ইজ দিস থিং অন?’ সম্পূর্ণরূপে বিবেচনার বাইরে চলে গেছে। পুরস্কার মৌসুমের প্রথম দিকেই এই অনুপস্থিতি নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যদিও ন্যাশনাল বোর্ড অব রিভিউর ফলাফল সবসময় অস্কারের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না, তবে তারা মৌসুমের আবহ গড়ে দেয় নিশ্চিতভাবেই। ২৬৫টি চলচ্চিত্রের মধ্য থেকে নির্বাচিত এই বিজয়ীদের জন্য আগামী ১৩ জানুয়ারি নিউ ইয়র্কে গালা আয়োজন করা হবে।
সব মিলিয়ে, একের পর এক সাফল্যে এখন স্পষ্ট—‘ওয়ান ব্যাটল আফটার অ্যানাদার’ এ বছরের সবচেয়ে আলোচিত, বিতর্কিত এবং একই সঙ্গে সবচেয়ে পুরস্কার সম্ভাবনাময় চলচ্চিত্র। এখন শুধু অপেক্ষা আগামী মার্চে অস্কারের মঞ্চে এই দাপট কতটা বজায় থাকে, সেই উত্তেজনার।