বিশ্বব্যাপী অনলাইন শপিং মৌসুম এবং গেমিং প্ল্যাটফর্মের জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালে সাইবার হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে জানিয়েছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তারা জানায়, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইন স্টোর, ব্যাংক এবং পেমেন্ট সেবার ছদ্মবেশে পরিচালিত ৬৪ লাখের বেশি ফিশিং প্রচেষ্টা তারা শনাক্ত করে বন্ধ করেছে, যার বড় অংশই অনলাইন ক্রেতাদের লক্ষ্য করে ছিল।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ব্ল্যাক ফ্রাইডে সামনে রেখে নভেম্বরের প্রথম দুই সপ্তাহে এক লাখের বেশি স্প্যাম মেইল শনাক্ত হয়েছে, যার অনেকগুলো আগের বছরের নকল টেমপ্লেট অনুসরণ করে তৈরি করা এবং অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট, আলিবাবা প্রভৃতি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের পরিচয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে বিনোদন প্ল্যাটফর্মও আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি। কেবল নেটফ্লিক্স সংশ্লিষ্ট আট লাখের বেশি আর স্পটিফাই সম্পর্কিত পাঁচ লাখের বেশি ফিশিং প্রচেষ্টা ধরা পড়ে।
গেমিং সেক্টরেও সাইবার হুমকির মাত্রা ছিল বেশি। স্টিম, প্লেস্টেশন এবং এক্সবক্সের মতো জনপ্রিয় গেমিং প্ল্যাটফর্মে দুই কোটি হামলার চেষ্টা রেকর্ড হয়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ডিসকর্ডের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া এক কোটি ৮৫ লাখের বেশি ম্যালওয়ার আক্রমণ, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় চৌদ্দ গুণ বেশি।
ক্যাসপারস্কির সিনিয়র ওয়েব কনটেন্ট অ্যানালিস্ট ওলগা অলতুখোভা বলেন, সাইবার অপরাধীরা এখন ডিজিটাল ব্যবহারের প্রতিটি স্তরে নজর দিচ্ছে। অনলাইন শপিং থেকে গেমিং, স্ট্রিমিং কিংবা যোগাযোগ সেবা, যেখানেই ব্যবহারকারীর কার্যক্রম বেশি, সেখানেই হামলাকারীরা নিজেদের কৌশল বদলে নতুনভাবে আক্রমণ পরিচালনা করছে। ব্যবহারকারীর জন্য তাই অনলাইন কেনাকাটা বা যেকোনো ডিজিটাল কার্যক্রমে সচেতনতা এবং মৌলিক সাইবার নিরাপত্তা অনুশীলন এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শপিং সিজনে আকর্ষণীয় অফারের আড়ালে ব্যক্তিগত তথ্য ও আর্থিক তথ্য চুরি করার প্রবণতা আরও বাড়ে। তাই অনলাইনে লেনদেন করার আগে ওয়েবসাইটের ঠিকানা যাচাই, অপরিচিত উৎসের লিংক বা অ্যাটাচমেন্ট না খোলা এবং নিয়মিত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করা নিরাপদ থাকার জন্য অপরিহার্য।