ব্রিটিশ অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ড রেডিওহেড–এর ফ্রন্টম্যান থম ইয়র্ক জানিয়েছেন, ইসরায়েলে বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনি আর কোনো কনসার্ট করতে চান না। যুক্তরাজ্যের দ্য সানডে টাইমস–কে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “একেবারেই নয়। নেতানিয়াহুর প্রশাসনের পাঁচ হাজার মাইলের মধ্যেও যেতে চাই না।”
২০১৭ সালের তেল আবিব কনসার্ট নিয়ে অনুতাপ
২০১৬–১৮ সালের A Moon Shaped Pool বিশ্ব সফরের সময় তেল আবিবে শো করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে রেডিওহেড। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বয়কটের ডাক উপেক্ষা করে কনসার্ট করার সিদ্ধান্তের জন্য ব্যান্ডটিকে তীব্র সমালোচনা সহ্য করতে হয়।
নতুন সাক্ষাৎকারে সেই ঘটনার জন্য কিছুটা অনুতাপও প্রকাশ করেছেন থম ইয়র্ক। তিনি জানিয়েছেন—তেল আবিবের কনসার্টের পর এক “উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি ব্যক্তি” হোটেলে এসে তাঁদের ধন্যবাদ জানান, যা তাঁর জন্য “হতবাক করার মতো” অভিজ্ঞতা ছিল।
বয়কট বিতর্ক ও ব্যান্ডের বিভক্ত অবস্থান
রেডিওহেড দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল–ফিলিস্তিন ইস্যুতে বয়কটের চাপের মুখে রয়েছে। বিশেষ করে ব্যান্ডের গিটারিস্ট জনি গ্রিনউড—যার স্ত্রী ইসরায়েলি এবং যিনি নিয়মিত আরব ও ইসরায়েলি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেন—এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন।
থম ইয়র্কের অবস্থান যেখানে স্পষ্টভাবে ইসরায়েল বিরোধী, জনি গ্রিনউড সেখানে বয়কটকে “বিপজ্জনক” বলেই মনে করেন। তাঁর বক্তব্য—“বয়কট করলে সরকার আরও বলবে যে সবাই আমাদের ঘৃণা করে, তাই আমরা যা খুশি করতে পারি।”
গ্রিনউড জানান, তিনি লজ্জিত শুধু ব্যান্ডমেটদের “এই জটিল পরিস্থিতিতে টেনে আনার জন্য,” তবে আরব ও ইসরায়েলি শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করায় তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই।
অস্ট্রেলিয়ায় মঞ্চ ছাড়ার ঘটনা
গত বছর মেলবোর্নে একক শো চলাকালে এক ফিলিস্তিনপন্থি দর্শক চিৎকার করে প্রশ্ন করেন—“আর কত শিশু মরলে আপনি গাজার গণহত্যা নিয়ে কথা বলবেন?”। এতে থম ইয়র্ক মঞ্চ ছেড়ে চলে যান। পরদিন তিনি বিবৃতি দিয়ে জানান, তাঁর নীরবতাকে “সমর্থন” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে দেখে তিনি হতবাক।
ইউরোপ ট্যুরে ইসরায়েল নেই
রেডিওহেড সাত বছর পর নতুন ট্যুরে ফিরছে। নভেম্বরে শুরু হতে যাওয়া সফরে ইউরোপের পাঁচ শহরে ২০টি কনসার্ট থাকবে—তবে তেল আবিব সেই তালিকায় নেই।
ইসরায়েলের ইউরোভিশন অংশগ্রহণ নিয়েও আপত্তি
সাক্ষাৎকারে থম বলেন, “ইসরায়েলের ইউরোভিশনে অংশ নেওয়া উচিত নয়।” যদিও সঙ্গে যোগ করেন—“আসলে ইউরোভিশনেরই ইউরোভিশন করা উচিত কি না, সেটাই প্রশ্ন!”
বৃহত্তর প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ও ইসরায়েলি সরকারের ব্যাপক পাল্টা অভিযানসহ পুরো প্রেক্ষাপটেই রেডিওহেডকে নিয়মিত কটূক্তি, বয়কট ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। থম ইয়র্কের মতে, এই বিতর্ক এখন “আর্থার মিলারের দ্য ক্রুসিবল–এর মতো একটি নিম্নস্তরের ডাইনি শিকার”, যা তাঁকে “রাতে ঘুমোতে দেয় না।”