দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা, নদীভাঙনকবলিত মানুষের সংগ্রাম এবং জনপদের আখ্যান—এই তিনের অসাধারণ সংমিশ্রণে নির্মিত হয়েছে তাওকীর ইসলামের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘দেলুপি’। খুলনায় মুক্তির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা ছবিটি এখন চতুর্থ সপ্তাহে এসে আরও জোরাল দর্শকপ্রবাহ টেনে নিচ্ছে। এই সপ্তাহে মিরপুরের ‘স্টার সিনেপ্লেক্স সনি স্কয়ার’-এ যুক্ত হয়েছে নতুন শো; পুরোনো হলগুলোতেও চলছে নিয়মিত প্রদর্শনী।
৪র্থ সপ্তাহে ‘দেলুপি’—হল ও শো-টাইম
দর্শকের চাহিদা ধরে রেখে এই সপ্তাহে যে হলে ‘দেলুপি’ প্রদর্শিত হচ্ছে:
ঢাকা
স্টার সিনেপ্লেক্স, বসুন্ধরা সিটি মল
দুপুর ২:২০ — সন্ধ্যা ৭:২০
স্টার সিনেপ্লেক্স, সনি স্কয়ার, মিরপুর
দুপুর ১:৪৫ — রাত ৭:১৫
চট্টগ্রাম
স্টার সিনেপ্লেক্স, বালি আর্কেড
দুপুর ২:৩০ — সন্ধ্যা ৭:৪৫
নারায়ণগঞ্জ
সিনেস্কোপ
দুপুর ৩:০০ — বিকাল ৫:৩০ — রাত ৮:০০
রাজশাহী
গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্স
সন্ধ্যা ৬:০০
প্রথম সপ্তাহ থেকে এখন পর্যন্ত ‘দেলুপি’র যাত্রা
৭ নভেম্বর খুলনায় লিবার্টি সিনেমা হলে প্রথম মুক্তি পায় ‘দেলুপি’।
সেই প্রথম দিন থেকেই খুলনা শহর ও পাইকগাছা অঞ্চলের দর্শকের আগ্রহে টিকেট–সংকট তৈরি হয়। এরপর ১৪ নভেম্বর দ্বিতীয় সপ্তাহে ছবিটি ঢাকাসহ দেশব্যাপী ৬টি হলে মুক্তি পায়—স্টার সিনেপ্লেক্স, লায়ন সিনেমাস, সিনেস্কোপ, রাজ তিলক সিনেমা হল, গ্র্যান্ড রিভারভিউ সিনেপ্লেক্স ও মম ইন মুভিজ।
মুক্তির পর থেকে টানা চার সপ্তাহ ধরে সিনেমাটি হল পরিবর্তন না করে বরং হল সংখ্যা বৃদ্ধি করে চলছে—যা সাম্প্রতিক সময়ে কোনো স্বাধীন বাজেটের ছবির জন্য বিরল।
কীভাবে তৈরি হলো ‘দেলুপি’ নির্মাণ-পেছনের গল্প
পরিচালক মোহাম্মদ তাওকীর ইসলাম, যিনি ‘শাটিকাপ’ (২০২২) ও ‘সিনপাট’ (২০২৪) দিয়ে দর্শকমনে জায়গা করে নিয়েছিলেন, এবার আরও গভীরে নেমেছেন খুলনার দেলুটি অঞ্চলের বাস্তবতায়।
গল্পের বীজ আসল জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে
তাওকীর জানান—চিত্রনাট্য লেখার সময় তিনি দেলুটি অঞ্চলে গিয়ে দীর্ঘদিন থেকেছেন। স্থানীয় মানুষের জীবন, সম্পর্ক, সংগ্রাম—সবকিছু কাছ থেকে পর্যবেক্ষণের মধ্যেই জন্ম নেয় দেলুপি’র গল্প।
গ্রাম, নদীভাঙন, রাজনৈতিক পালাবদল—সব বাস্তব থেকে ব্যবহৃত
সিনেমার শুরুতেই নদীর বাঁধ ভেঙে বন্যার দৃশ্য এবং তার মধ্যে রাজনীতির পালাবদল—ঘটনাগুলো বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে কাল্পনিক গল্পে রূপ পেয়েছে। ‘ত্রাণ চাই না, স্থায়ী বাঁধ চাই’—এই মায়ের কান্নাভেজা আকুতিকে তিনি চলচ্চিত্রের মূল চেতনায় পরিণত করেছেন।
পেশাদার তারকা নয়—পুরো কাস্ট স্থানীয় মানুষ
চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন দেলুটি ও আশপাশের ইউনিয়নের আসল বাসিন্দারা। চিরঞ্জিত বিশ্বাস, অদিতি রায়, রুদ্র রায়, জাকিরসহ প্রতিটি চরিত্র বাস্তবতার ভার বহন করেছে। সমালোচকদের মতে—“শতভাগ নতুন মুখ, তবু অভিনয়ে এক বিন্দু দুর্বলতা নেই।”
কেন এই সিনেমা দর্শককে টানছে
রাজনৈতিক স্যাটায়ারের অভাব পূরণ করেছে ‘দেলুপি’
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন পর একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক ড্রামা। দর্শক হলে বসে রাজনৈতিক বার্তা, সংস্কৃতির সংকট, গ্রামের মানুষদের লড়াই—এসবের সঙ্গে নিজের জীবনও মিলিয়ে নিচ্ছেন।
ছোট বাজেটে বড় সিনেমার প্রমাণ
দর্শক ও সমালোচকদের অভিমত— “তারকা নয়, গল্পই সবচেয়ে বড় তারকা।” দেলুপি দেখিয়েছে—বাজেট নয়, ভালোগল্প-ভালো সিনেমাটিক ভিশনই চলচ্চিত্রকে দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়।
মুখে মুখে দর্শকপ্রবাহ
খুলনা ও ঢাকায় প্রথম সপ্তাহেই ‘হাউসফুল’ শো— সিনেমাটি এখন ‘ওয়ার্ড-অব-মাউথ হিট’।
চতুর্থ সপ্তাহে এসে ‘দেলুপি’ শুধু টিকে নেই, বরং দর্শকের ভালোবাসায় আরও শক্তিশালী হচ্ছে। স্থানীয় মানুষের গল্প, নতুন অভিনয়শিল্পী, রাজনৈতিক স্যাটায়ারের শক্তিশালী উপস্থাপন এবং নির্মাতার গভীর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি—সব মিলিয়ে দেলুপি এখন বছরের সবচেয়ে আলোচিত স্বাধীন চলচ্চিত্র।
যারা এখনও দেখেননি, এই সপ্তাহের শো-টাইমেই দেখে নিতে পারেন।